Opu Hasnat

আজ ২১ মে শনিবার ২০২২,

মোরেলগঞ্জে ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পেল করোনা টিকা বাগেরহাট

মোরেলগঞ্জে ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পেল করোনা টিকা

গত দুই বছরে সারাদেশের ন্যায় করোনায় বেহাল দশা দেখেছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ বাসী । গত দুই বছরে করোনায়  উপজেলায়  প্রাণহাণিসহ আক্রান্ত হয়েছেন শত শত নারী-পুরুষ। করোনার দৈন্যদশা থেকে বাদ যায়নি মোরেলগঞ্জের স্কুল কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। গত বছরে প্রথম দিকে দেশে করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হলেও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা টিকা গ্রহনের বাইরে ছিল । তবে গত বছরের শেষের দিকে সরকার শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় নিয়ে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা ছিল  এ বছরের ১৫ ই জানুয়ারীর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান সম্পন্ন করার। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রমে মোরেলগঞ্জ উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কিছুটা সফলতা দেখিয়েছে।  

গত দেড় মাসে উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ১২  থেকে ১৮ বছরের প্রায় ৩১ হাজার  থেকে  শিক্ষার্থীকে ফাইজারের টিকা দিতে পেরেছে তারা।

আর এতে করে সরকারের দেওয়া লক্ষ্য মাত্রার ৯৬  শতাংশই পূরণ করা হয়েছে এই উপজেলায়। তবে কয়েকদিনের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ।  

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী টিকা দেওয়ার পরেই সব শিক্ষার্থীকে নিতে হবে পাঠ্যকক্ষে।  ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী মোরেলগঞ্জের ১২৭ টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ ছাত্রছাত্রীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়। ১৭ জানুয়ারী পর্যন্ত উপজেলার উপজেলায় এরই মধ্যে প্রথম ডোজ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে ৩১ হাজার জনকে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ।

এদিকে, শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের শতভাগকেই টিকার আওতায় আনতে বর্ধিত করা হয়েছে সময়সীমা। মাঠে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।

মোরেলগঞ্জের ১৬ বছর বয়সী শাফিন আহমেদ সহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, করোনার জন্য একটা সময় বাসা থেকে বের হতেই ভয় লাগতো। তবে এখন টিকা দেওয়ার পর নিজেকে অনেকটা সুরক্ষা মনে হচ্ছে।

তারা বলেন, এত দ্রুত আমরা টিকা পাব তা কখনো চিন্তাই করেনি। তাই টিকা কার্যক্রম বেগবান হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানাই।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডাঃ কামাল হোসেন মুফতি  জানান, ফাইজারের টিকা সংরক্ষণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ প্রয়োজন। তাই প্রথম দিকে ব্যবস্থাপনায় কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল, আমরা চেস্টা করেছ শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ফাইজার  টিকা প্রদান করার, তবে কয়েকদিনের মধ্যে শতভাগের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবো।

এ ব্যাপারে মোরেলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান জানান ইতিমধ্যে  মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ১২৭ টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ থেকে ১৮ বছরের ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থীদের ফাইজার টিকা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছি।  সবার প্রচেষ্টায় শিগগির শতভাগ শিক্ষার্থী টিকার আওতায় আসবে।