Opu Hasnat

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০২১,

ব্রেকিং নিউজ

ফরিদপুরে তিন উপজেলা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পে বদলে যাওয়া এক জনপদ ফরিদপুর

ফরিদপুরে তিন উপজেলা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পে বদলে যাওয়া এক জনপদ

নদী ভাঙ্গন কবলিত ফরিদপুরের তিন উপজেলা আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্প গুলোর মাধ্যমে বদলে গেছে এই তিন উপজেলার গ্রামীন প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদ গুলো। গত ২০২০/২১ সালে এই তিন উপজেলার গ্রামীন উন্নয়ন প্রকল্পের নেয়া ২৯৮টি প্রকল্প বদলে দিয়েছে এই এলাকার মানুষের ভাগ্যর। এতে ঘুরে দাড়িঁয়েছে গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতির চাকা। আগামীতে আরো বেশি বেশি প্রকল্প দিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই জনপদ গুলোকে আরো বেশি আধুনিকায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
     
ফরিদপুরের তিন উপজেলা আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর -১ সংসদীয় আসন। জেলার ভিতর সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা ও বড় এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনটি। তিন উপজেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীন রাস্তা-ঘাট ও স্কুল কলেজ সহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি কখনো। উন্নয়নের ছোঁয়া না পাওয়া এইসব এলাকার সাধারন মানুষ কোন সময় কল্পনা করতে পারেনি পাকাঁ-রাস্তা ও ব্রীজ এর উপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে। এবার এই আসনের সাংসদ তাঁর পাওয়া কাবিটা/টিআর কর্মসূচি গুলো শতভাগ বাস্তবায়ন করে এই অঞ্চলের গ্রামীন অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু করেন। তাঁর নেয়া তিন উপজেলায় ২০২০/২১ অর্থবছরে ২৯৮টি উন্নয়ন প্রকল্প গুলো শতভাগ বাস্তবায়ন তিনি করেছেন। এরআগে এই সব প্রকল্পের টাকা গুলো নেতাকর্মিদের মধ্যে বন্টন হওয়ায় এর সুফল ভোগ করেনি সেভাবে জনগন। ফলে এই সব গ্রামীন প্রধান তিন উপজেলার রাস্তা-ঘাটে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।

তিন উপজেলার পিআইও দপ্তর সূত্রে জানাযায়, তিন উপজেলার ২৯৮টি উন্নয়ন প্রকল্পে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮ শত ১৭ টাকা ব্যয় হয়েছে ২০২০/২১ অর্থ বছরে। যা সুষ্ট তদারকির মাধ্যমে পুরোটায় ব্যয় করা হয়েছে এই তিন উপজেলায়। এদিকে নতুন তৈরি করা এই সব রাস্তা গুলোর পাশে রোপন করা হচ্ছে কলা ও বজ্রনিধোরক তাল গাছের চারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।     

সত্তরোর্ধ্ব আলফাডাঙ্গা উপজেলার পানাইল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফারুক আহমেদ বলেন, পানাইল থেকে রায় পানাইল দেখা যেতো। কিন্তু সরাসরি একটি রাস্তা না থাকায় আমাদের যাওয়া আসা একেবারে বন্ধ হয়ে ছিলো এই দুই গ্রামের মধ্যে। যারা আসা যাওয়া করতো তাদের অনেক টাকা পয়সা খরচ করে আসা যাওয়া করতো অনেক পথ ঘুরে। স্থানীয় এমপি মহোদয় আমাদের দুঃখের কথা শুনে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা থেকে একটি রাস্তা এবার করে দিয়েছেন। এখন আমরা খুব ভালো ভাবে যাওয়া আসা করতে পারছি।  

ওই একই এলাকার বৃদ্ধ আনিসুর তালুকদার বলেন, অনেক কষ্ট হতো গ্রামটি দেখতে পেলেও যাওয়ার পথ বন্ধ থাকায় যেতে পারতাম না। এখন একটি রাস্তা হওয়ায় সেই সমস্যা দূর হয়েছে। এছাড়াও রাস্তার দুই পাশে তাল গাছের চারা রোপন করা হচ্ছে। এতে এলাকটি সুন্দর হবে বলে তিনি জানান।

টগরবন্ধ এলাকার কুদ্দুস শেখ বলেন, আমাদের এই এলাকার একটি খালের উপর একটি ব্রীজের জন্য বহু বছর ঘুরেছি। কিন্তু কেও আমাদের কথা শুনেনি। এবার বিষয়টি এমপি মহোদয়কে জানালে তিনি দ্রুত তার পাওয়া বরাদ্ধ থেকে এই ব্রীজটি করে দিয়ে ২০টি গ্রামের যাওয়া আসা অনেক সহজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রত্যন্ত এই সব এলাকায় আগে এমন করে উন্নয়ন না হওয়ার কারনে আমরা পিছিয়ে ছিলাম বর্তমান সময়ের থেকে অনেক।

বোয়লামারী উপজেলার চতুল এলাকার মাহিদ নামে একজন বলেন আমাদের তিন উপজেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তা-ঘাটের আগে তেমন উন্নয়ন হয়নি। অনেক কষ্ট করে আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য ও মালামাল আনা নেয়া করতে হতো। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি হতো। এখন এমপির নেয়া এই সব প্রকল্পের টাকা শতভাগ বাস্তবায়নের কারনে আমরা সুন্দর ভাবে চলাচল করতে পারছি। এতে কৃষি পণ্য সহ উৎপাদিত সকল কিছু দিনে দিনেই বিক্রি করে বাড়িতে আসতে পারছি।
 
আলফাডাঙ্গা উপজলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ, কে, এম জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, এমপি মহোদয় একজন সজ্জন ব্যক্তি। এলাকায় অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। এমপি নিজে বিভিন্ন প্রকল্প সরোজমিনে পরিদর্শণ করে মনোপূত হলেও কেবল তিনি বিল প্রদান করতে নির্দেশ প্রদান করেন। তার মতো এত সৎ ভালো মানুষের কারনে কাবিখা/কাবিটা/টিআর প্রকল্পের টাকা নয় ছয়ের কোন সুযোগ নেই। আর এই কারনে প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তা-ঘাট আজ উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়ে বদলে গেছে।
 
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা তৌহিদ এলাহী বলেন, সরকার থেকে পাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের পুরো টাকা সুষ্ট তদারকির মাধ্যমে বন্টিত হয়েছে এই সব উপজেলোয়। চেষ্টা করছি এই সব এলাকার অনগ্রসর উন্নয়ন না হওয়া প্রত্যন্ত এলাকায় আরো কাজ করে এলাকা গুলোকে আধুনিকতার ছোঁয়া দেয়ার। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পগুলার বরাদ্দ একটু দেরিতে আসায় বর্ষা মৌসুমেই কাজ করেতে হচ্ছে। তারপরেও কঠোর নজরদারিতে সকল কাজ বুঝে নেয়া হচ্ছে।  

পিছিয়ে পড়া এই তিন উপজেলায় গ্রামীন এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরো বেশি উন্নয়ন প্রকল্প সহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন গ্রহন করা হবে এই প্রত্যাশা এই তিন উপজেলার বাসিন্দাদের।