Opu Hasnat

আজ ২৪ জুলাই শনিবার ২০২১,

ভাঙ্গায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্বামীকে হত্যা, খুনের রহস্য উদঘাটন ফরিদপুর

ভাঙ্গায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্বামীকে হত্যা, খুনের রহস্য উদঘাটন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্বামীকে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় ৬ মাস পর খুনের আসল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। খুনের পরিকল্পনাকারী পরকিয়া প্রেমিক আতিয়ার রহমান ভুলু মোল্লা (৬৫) ও নিহতের স্ত্রী হাফিজা বেগম (৪৫) সহ জড়িত আরো দুই জনকে আটক করেছে। এরা হচ্ছে- প্রেমিকের ছেলে সম্রাট (৩০) ও প্রেমিকা হাফিজার ছেলে হোসাইন। বিষয়টি বৃহ¯পতিবার বিকালে পুলিশ প্রেস রিলিজের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।

জানাযায়, গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাতে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের চরকান্দা গ্রামের সেকেন্দার আলী মোল্লা (৫০)কে খুন করে বাড়ীর পাশে রাঘদার বিলে লাশ কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। খুনের দুদিন পর ২৭শে অক্টোবর নিহতের স্ত্রী হাফিজা বেগম বাদী হয়ে প্রেমিকার প্রতিপক্ষ খোকন মোল্লা ও খলিল মোল্লা গং দেরকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রায় ছয় মাস পর খুনের আসল রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়।

পুলিশ আরো জানায়, খুন হওয়া সেকেন্দারের স্ত্রী হাফিজার সঙ্গে ভুলু মোল্লার দীর্ঘদিন পরকিয়া প্রেমের স¤পর্ক ছিল। সেই সুযোগ নিয়ে প্রেমিক ভুলু মোল্লা তার প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রেমিকা হাফিজাকে দিয়ে তার স্বামীকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খুনিরা হত্যার কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ননা দেয়। ২৫শে অক্টোবর রাতে প্রেমিক ভুলু মোল্লার পরিকল্পনা অনুযায়ী হাফিজাকে দিয়ে তার স্বামীকে ঘুমের ঔষধ খাওয়াইয়ে বাড়ীর পাশের পুকুর পাড়ে নিয়ে আসে। তখন ভুলু মোল্লা ও তার ছেলে সম্রাট মোল্লা সেকেন্দারকে  কিলঘুসি, লাথি ও মুখ চেপে ধরলে তার মৃত্যু হয়। পরে সেকেন্দারের লাশ অন্যত্র সরিয়ে নিতে নৌকায় তোলা হয়। এ সময় মৃত (সেকেন্দারের) ছেলে হোসাইন দেখে ফেলে। খুনিরা তখন হোসাইনকে ঘটনা জানাজানি করলে তাকেও তার বাবার মত মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এর পর হোসাইন আর মুখ খোলেনি। এক পর্যায়ে খুনিরা সেকেন্দারের লাশ ওই গ্রামের রাঘদার বিলের মধ্যে ফেলে আসে।  পরের দিন সোমবার বিকেলে স্থানীয় দেলোয়ার নামক এক জেলে লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতে খুনিরা নাটক সাজিয়ে কান্নাকাটির অভিনয় করে খুনের বিচার দাবী করে। পরের দিন স্ত্রী হাফিজা বাদী হয়ে প্রেমিকের প্রতিপক্ষকে আসামী করে হত্যা মামলা করে।

এঘটনায় এসআই আজাদ বলেন, হত্যাকারীরা বিজ্ঞ সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট অসিফ আকরাম এর ৩নং আমলী আদালতে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে জবান বন্দি দিয়েছে।