Opu Hasnat

আজ ২১ জুন সোমবার ২০২১,

খাগড়াছড়িতে ২ বছরে সাবাড় দুই শতাধিক পাহাড়! খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে ২ বছরে সাবাড় দুই শতাধিক পাহাড়!

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলাতে ২ বছরে সাবাড় দুই শতাধিক পাহাড়, যা  ন্যাড়া পাহাড়ে পরিনত হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত বেশিরভাগ মানুষ পাহাড় কেন্দ্রিক বনজ ও জুম চাষের অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের কারণে পাহাড় কেন্দ্রিক মানুষের নির্ভরশীলতা বাড়ছে। পাহাড়ের ওপর অনেক মানুষ জীবন ও জীবিকা নির্ভর করলেও সেই পাহাড়কে সাবাড় করে দিচ্ছে কেউ কেউ। এতে বিপন্ন হচ্ছে পাহাড়ের প্রাণ ও প্রকৃতি। খাগড়াছড়িতে পাহাড়, বন উজাড়, ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলনসহ নানা কারণে পরিবেশের বিপর্যয় হচ্ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায় খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই বছরে খাগড়াছড়ি থেকে সাবাড় হয়েছে অন্তত: ২শ পাহাড়। কোথাও আংশিক আবার কোথাও পুরো পাহাড়ই সাবাড় কেড়ে দিয়েছে পাহাড় খেকোরা।

এর মধ্যে কেবল মাটিরাঙা উপজেলাতেই কাটা হয়েছে শতাধিক পাহাড়। রাতের আঁধারে কাটা হয়েছে বেশিরভাগ পাহাড়। মাটিরাঙা উপজেলার গোমতি, তাইন্দং, তবলছড়ি, বেলছড়ি, খেদাছড়া, আদর্শ গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক পাহাড় কাটা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণ, রাস্তা সংষ্কার এবং ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য পাহাড় কাটছে একটি চক্র। দিনের আলোয় পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবেশ কর্মীরা। গত কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি। বিনা বাধায় পাহাড় খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এছাড়া বেশির ভাগ পাহাড়ই কাটা হয়েছে অত্যন্ত খাড়াভাবে। এতে পাহাড় ধসের শঙ্কা আরও বেশি ঝুকিপুর্ন। একই অবস্থা খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায়। উপজেলা চোংড়াছড়িসহ খাগড়াছড়ি মহালছড়ি সড়কের লাগায়ো বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা হয়েছে। মহালছড়ি উপজেলায় মহালছড়ি-চোংড়াছড়ি সড়কের শান্তি নগর এলাকায় খাড়া পাহাড় কেটে সাবাড় করে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় শত ফুট উচ্চতার খাড়া পাহাড়ের একটি বড় অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে জেলার দীঘিনালা, রামগড়, পানছড়িতে। 

এছাড়া গুইমারা উপজেলার শনখোলা পাড়া, মুসলিমপাড়া, আমলতলীপাড়া, চিংগুলীপাড়া, সিন্দুকছড়ি, তৈকর্মা, বড়পিলাক, জালিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাড়া কর্তন হয়েছে। মানিকছড়ি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পাহাড় কেটে ঢালু করা হয়েছে হাজী পাড়া, মুসলিম পাড়া, মাস্টার পাড়া, রহমান নগর, ডাইনছড়ি, সেম্প্রুপাড়া, কালাপানি, গাড়িঢানা, সাপমারা ও তিন টহরীতে। 

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী জানান, প্রশাসনিক ভাবে পাহাড় কাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দেদার পাহাড় কাটা চলছে। চিরন্তন চলতে থাকবে পাহাড় জবর-দখল যেমন বেপরোয়া ঠিক তেমনি, পাহাড় কাটা মহোৎসবে মেতে উঠেছে পাহাড় খেকোরা।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর