Opu Hasnat

আজ ২১ জুন সোমবার ২০২১,

নড়াইল পৌরসভার বিরূদ্ধে বেআইনিভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ নড়াইল

নড়াইল পৌরসভার বিরূদ্ধে বেআইনিভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ

নড়াইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ’র বিরূদ্ধে বেআইনিভাবে টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ট্রাক, পিক-আপ মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ পৌরসভা কর্র্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে টোল আদায়ের ইজারা দিয়ে জেলার মহাসড়কে পণ্যবাহি পরিবহন হতে ইজারাদারের মাধ্যমে টোল আদায় করছে। লাঠির মাথায় লাল কাপড় বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে চাঁদাবাজরা। পণ্যবাহি ট্রাক, ট্যাংকলরি, পিকআপ, নছিমন, ইজিবাইক, জেএসএ দেখা মাত্রই লাল কাপড় বাঁধা লাঠি উচু করে ধরে। আর মাল বোঝাই  পরিবহনটি এসে লাঠির সামনে দাঁড়িয়ে যায়। দাঁড়ানো মাত্রই চালক বা হেলপারের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় নির্ধারিত টাকা লেখা স্লিপ। এভাবে স্লিপ দিয়ে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে হরদম প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে। 

এ টোল আদায় বন্ধের জন্য ট্রাক, ট্যাংকলরি, পিকআপ মালিক সমিতির নেতা ও নড়াইল শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্জ্ব মোঃ সোহরাব হোসেন বিশ্বাস চলতি বছরের ৫মে নড়াইল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, পণ্যবাহি পরিবহনের চালকদের হাতে ৩০ টাকার রশিদ ধরিয়ে দিয়ে জোর করেই চাঁদার টাকা আদায় করা হয়। দেশের কোন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এভাবে চাঁদাবাজি করে না। কিন্তু নড়াইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের মাধ্যমে টোল আদায়ের ইজারা দিয়েছেন। গত পহেলা বৈশাখ হতে ইজারাদার রজিবুল ইসলাম ২৭ লক্ষাধিক টাকায় ১ বছরের জন্য নড়াইল পৌরসভা বাসটার্মিনাল টোল আদায়ের ইজারা নিয়েছেন। নড়াইল শহরের প্রত্যেকটি প্রবেশদ্বারে মহাসড়কের একাধিক স্থানে লাঠির মাথায় লাল কাপড় বেঁধে রশিদ দিয়ে টাকা নিচ্ছেন। প্রত্যেকটি স্থানেই ২/৩ জনের একটি দল থাকে। যাদের প্রত্যেকের হাতে লাঠি থাকে। লাঠির মাথায় বাঁধা থাকে লাল কাপড়। যা দেখিয়ে গাড়ী থামানো হয়। কোন যানবাহনের চালক টাকা দিতে না চাইলে ওই লাঠি দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়। নড়াইলের বাসটার্মিনাল ময়লার স্তুপে ভরা। দুর্গন্ধের কারনে কোন যানবাহন সেখানে যেতে চায় না। এমনকি যাত্রীবাহি বাস মিনিবাস ওই টার্মিনাল ব্যবহার করে না। নড়াইলে কোন ট্রাক টার্মিনাল নেই। তারপরও পৌরসভা এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া যশোর-কালনা মহাসড়ক দিয়ে কোন ট্রাক, ট্যাংকলরি, পিকআপ, নছিমন, ইজিবাইক, জেএসএ যাতায়াত করলে টোল দিতে হয়। টার্মিনাল ব্যবহার না করলেও ওইসব যানবাহন হতে ৩০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। পৌরসভার টোল আদায়ের অজুহাতে রাত দিন প্রকাশ্যে এ চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। 

ট্রাক মালিক ও চালকদের দেয়া তথ্যে আরোও জানা যায়, নড়াইল জেলা শহরের উপর দিয়ে ট্রাক, ট্যাংক লরী, পিক-আপ গেলেই চাঁদা দিতে হয়। পৌর টার্মিনাল ব্যবহার না করলেও জোর করে এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে না চাইলে অসম্মান সূচক কথা বলা হয়। অনেক সময় চরম দূর্ব্যবহার ও অপমান করা হয়। নড়াইল জেলা শহরের প্রবেশপথ নতুন বাস টার্মিনাল, সুলতান ব্রীজ, ধোপাখোলা মোড় ও পুরাতন বাসটার্মিনাল হতে পৌর টোল আদায়ের নামে চাঁদা তোলা হয়। নড়াইল জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, নড়াইল পৌরসভা টোল আদায়ের নামে প্রকাশ্যে রশিদ দিয়ে ইজারাদারের মাধ্যমে অর্থ আদায় করছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ টাল আদায় বন্ধ হওয়া জরুরী। 

নড়াইল জেলা ট্রাক ও ট্যাংকলরী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী সোহরাব হোসেন জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় এর অধিনস্থ স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর-১ শাখা কর্তৃক ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর জারীকৃত স্মারক নং ৮৬.০০.০০০.০৬৩.৩১.০০২.১৩-২২৫০ মোতাবেক সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা কর্তৃক পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন মহাসড়কে বাস/ট্রাক টার্মিনালের বাইরে বক্স বসিয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে টোল/ট্যাক্স আদায় করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এভাবে হয়রানী করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এই নির্দেশ অমান্য করে নড়াইল পৌরসভা টোল আদায়ের ইজারা দিয়েছে। জেলার উপর দিয়ে গাড়ী গেলেই চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা দিতে গিয়ে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। দ্ব›দ্ব ফ্যাসাদ হচ্ছে। তিনি চাঁদাবাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

নড়াইল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মোঃ হাসানুজ্জামান বলেন, নড়াইল পৌরসভা টোল আদায়ের নামে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে ডাকাতি করা হচ্ছে। দেশের কোথাও এমন অরাজক অবস্থা নেই। একটি সংঘবদ্ধ চক্র মেয়রকে টোলের ইজারা দিতে বাধ্য করেছে। ইজারাদার লোকজন দিয়ে টোল নামক চাঁদাবাজি করছে। 

নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিয়ম না মেনেই সড়কে চলাচলকারি পণ্যবাহি পরিবহন হতে অর্থ আদায় করছে। এ নিয়ে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। তিনি নিজেও এক সময় নড়াইল পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময় তিনি এ অবৈধ টোল আদায় বন্ধ রেখেছিলেন। তিনি টোল নামক এ চাঁদা আদায় বন্ধের জন্য পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নড়াইল পৌরসভায় ট্রাক টার্মিনাল না থাকা সত্বেও পৌর টোল আদায়ের ব্যাপারে মেয়র আঞ্জুমান আরা কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। টোল আদায়ের বৈধতার বিষয়ে কোন যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেননি। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সাথে বার বার মোবাইলে যোগযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।