Opu Hasnat

আজ ২৪ জুলাই শনিবার ২০২১,

সিংগাইরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে ৩’শ বিঘা জমির ধান কৃষি সংবাদমানিকগঞ্জ

সিংগাইরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে ৩’শ বিঘা জমির ধান

মানিকগঞ্জের সিংগাইওে চলতি ইরি-বোরো মওসুমে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে প্রায় ৩’শ বিঘা জমির আধা-পাঁকা ধান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাথায় হাত, তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। এসব ধানি জমির পাশে ইটভাটা গড়ে ওঠায় বিগত বছরেও এমন অবস্থার শিকার হন বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেন।

সরেজমিন শনিবার (২৯ মে) চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর-চালিতাপাড়া চকে দেখা যায়, এমবিএম ও মেসার্স সার্ক কোম্পানীর ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কৃষকের শতাধিক বিঘা জমির আধা-পাঁকা ধান পুড়ে গেছে। ফসলি জমির এ চকটিতে একের পর এক  গড়ে ওঠেছে ৮-৯টি  ইটভাটা। এসব ভাটার কারণেই এমন ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে কৃষকেরা অভিযোগ করেন। ক্ষেতের আধা-পাঁকা ধান নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষককে আহাজারি করতে দেখা গেছে।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই চকের ইরি-বোরো প্রজেক্ট মালিক আনোয়ার মাতবরের ৪৯ বিঘা, ইসলামের ১১ বিঘা, আব্দুল হকের ২৫ বিঘা, মুজিবুর রহমানের ১৬ বিঘা, শাহজাহানের ৮ বিঘা, রফিক সিকদারের ৫ বিঘা, নবু সিকদারের ৯ বিঘা ও আনছার আলীর ৮ বিঘা ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের সারা বছরের খাদ্য  নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা পড়েেেছন পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হন সে জন্য ফসল ও পরিবেশ নষ্টকারী এসব ইটভাটা বন্ধের জোর দাবিও জানান তারা।
 
এদিকে, উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চাপরাইল হাতনী ও জামির্ত্তা চকেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে গড়ে ওঠা ৪টি ইটভাটার ধোঁয়ায় প্রজেক্ট মালিক আছিয়া বেগমের ৯ বিঘা, আব্দুল মালেকের ৪০ বিঘা, আপেলের ৪২ বিঘা,  রুপ কুমারের ৪৫ বিঘা,  ইউসুফ আলীর ৪৫ বিঘা, আব্দুর রহিমের ৪০ বিঘা, করম আলীর ২৫ বিঘা, আজিমুদ্দিনের ৩৫ বিঘা সেলিম মিয়ার ৩০ বিঘা, ও ভুট্টো মিয়ার ২৬ বিঘা জমির ধান পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় আবু সায়েম অভিযোগ করে বলেন, ফসলি জমিতে গড়ে ওঠা ইটভাটা বন্ধ না হলে কৃষকদের সারা বছরের খাবার এভাবে জমিতেই ফেলে রেখে যেতে হবে। চলতি মহামারিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচাও তাদের জন্য দূরুহ হয়ে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর চকের মেসার্স সার্ক ইটভাটার মালিক ফরিদ হোসেন বলেন, আমাদের ইটভাটা বন্ধের আগের দিন এমবিএম ভাটা বন্ধ হয়। বন্ধের আগে নির্গত ধোঁয়ায় ফসল নষ্ট হতে পারে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে আমার পক্ষ থেকে কোন আপত্তি নেই।

অপরদিকে, জামির্ত্তা চকের ভাটা মালিকেরা কৃষকদের ক্ষতির ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি ।

চান্দহর ইউনিয়নের মাধবপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনির হোসেন বলেন, ইটভাটার ধোঁয়ায় আবাদি জমির ৪০ ভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ফসলি জমিতে গড়ে ওঠা ইটভাটা বন্ধ না হলে প্রতি মওসুমে এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে কৃষকদের। দেখা দিবে খাদ্য খাটতি। আমি বিষষটি লিখিতভাবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ টিপু সুলতান সপন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে  অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রনোদনা দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)  রুনা লায়লা বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকার কাজ চলছে। তালিকা অনুযায়ী জেলায়  পাঠিয়ে অবশ্যই  ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। পাশাপাশি ওইসব ইটভাটাগুলো চালু থাকবে কি না সে বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।