​শিশুখাদ্যে ক্ষতিকর ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট ও বিষাক্ত রং ব্যবহার এবং ভোজ্যতেলে পরিমাপে কারচুপির দায়ে মুন্সীগঞ্জ সদরে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিএসটিআই। একই সঙ্গে আড়াই হাজার কেজি বিষাক্ত কাঁচা চিপস এবং ওজনে কম দেওয়া তেলের বোতল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে চিপস কারখানা দুটির বিদ্যুৎ সংযোগ।

​সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের উদ্যোগে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওমর ফারুক।

​অভিযানসূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার দশকানি এলাকার ‘রাজধানী চিপস’ এবং ‘ভাই ভাই চিপস’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুখাদ্য কাঁচা চিপস তৈরি করছিল। চিপসে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর সিনথেটিক রং ও কাচ বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট মিশোনো হচ্ছিল। এছাড়া কোনো ধরনের লেবেলিং বা মানচিহ্ন ছাড়াই বস্তা ও মোড়কে করে এসব পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছিল।

​এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সাথে অভিযানে জব্দ করা ২ হাজার ৫০০ কেজি ভেজাল কাঁচা চিপস বিএসটিআইয়ের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাৎক্ষণিকভাবে কারখানা দুটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

অপর এক অভিযানে সদর উপজেলার রামপালের সুখবাসপুর এলাকায় অবস্থিত ‘খন্দকার কনজ্যুমার প্রোডাক্টস’-এ বিএসটিআই প্রতিনিধিদল অভিযান চালায়। সেখানে ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের বোতল মেপে ব্যাপক কারচুপি ধরা পরে।

​পরীক্ষায় দেখা যায় ​৫ লিটারের বোতলে ১৫০ মিলিলিটার তেল কম, ​২ লিটারের বোতলে ৫০ মিলিলিটার তেল কম এবং ​১ লিটারের বোতলে ৪০ মিলিলিটার তেল কম দেওয়া হচ্ছিল।

এছাড়া বিএসটিআই থেকে বাধ্যতামূলক 'পণ্য মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ' না নিয়েই তারা ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল মোড়কজাত ও বাজারজাত করে আসছিল। এসব অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ওজনে কম দেওয়া বোতলগুলো জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানকালে বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক (সিএম) ও অফিস প্রধান কে. এম. হানিফ, সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি) মোঃ রাকিবুল আলম, ফিল্ড অফিসার (সিএম) মোঃ ইয়াছির আরাফাত উপস্থিত ছিলেন। তেল কোম্পানির মামলায় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মোঃ হাফিজুর রহমান।

​বিএসটিআই নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের প্রধান কে. এম. হানিফ জানান, জনস্বার্থে ভেজাল খাদ্য, পরিমাপে কারচুপি এবং অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।