Opu Hasnat

আজ ১৬ জুন রবিবার ২০২৪,

বরিশালে বিএনপির ১৯ নেতা বহিষ্কার বরিশাল

বরিশালে বিএনপির ১৯ নেতা বহিষ্কার

বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে মেয়র পদে লড়াই করা কামালরু আহসান রুপনের বিএনপিতে পদ নেই। ভোটের প্রচারে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপনসহ দলের সিদ্ধান্ত উপক্ষো করে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ১৯ প্রার্থীকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে আজীবন বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এর মধ্যে আছেন মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপনও। বাকি ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তিন জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী। 

বিএনপি বলেছে, এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাদের নাম ‘বেইমান, বিশ্বাসঘাতক ও মীরজাফর’ হিসেবে উচ্চারিত হবে। রোববার বরিশাল মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মো. জাহিদুর রহমান রিপন দলের এই সিদ্ধান্তে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।, “বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত আজীবন বহিষ্কার আদেশের চিঠি প্রত্যেক প্রার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়াত মেয়র আহসান হাবীব কামালের ছেলেও। কামাল ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি ভোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর রুপন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে লড়ছেন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তবে বিএনপিতে তার কোনো পদ নেই।  

১৯ প্রার্থীকে দেওয়া রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “আগামী ১২ জুনের বরিশাল সিটির ‘প্রহসনের নির্বাচনে’ আপনি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করার কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব সন্তোস জনক নয়।” এই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গত ১৫ বছর ধরে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে’ ‘গুম, খুন ও সরকারি পৈচাশিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে’ এমন পরিবারসহ ‘গণতন্ত্রকামী জনগোষ্ঠীর’ আকাঙ্খার প্রতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেও উল্লেখ করেছে বিএনপি। “গণতন্ত্র উদ্ধারের ইতিহাসে আপনার নাম একজন বেইমান, বিশ্বাসঘাতক ও মীরজাফর হিসেবে উচ্চারিত হবে,” এমন কথাও লেখা হয় চিঠিতে। রুপন ছাড়াও যারা বহিষ্কার যে ১৫ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন: ৩ নম্বর ওয়ার্ডেও সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক (রেডিও), ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমান টিপু (লাটিম), ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হারুন অর রশিদ (ঘুড়ি), সৈয়দ হুমায়ন কবির লিংকু (রেডিও) সেলিম হাওলাদার (ঘুড়ি); ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্দিকুর রহমান, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়াউল হক মাসুম (ঘুড়ি), জাবের আব্দুল্লাহ সাদি (টিফিন ক্যারিয়ার), কাজী মোহাম্মদ শাহীন, ও মনিরুল ইসলাম (রেডিও); ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আমিনুল ইসলাম আমিন (ঘুড়ি), ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জেসমিন সামাদ (লাটিম), ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফিরোজ আহম্মেদ (টিফিন ক্যারিয়ার), ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদউদ্দিন হাওলাদার (ঘুড়ি), ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ন কবির (লাটিম)। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিএনপির বিভিন্ন কমিটির, কেউ কেউ সহযোগী সংগঠনের কমিটির নেতা ছিলেন। কয়েকজন ছিলেন কমিটির সদস্য। সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের জাহানারা বেগম (গ্লাস), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিনা বেগম (আনারস) ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রাশিদা পারভীন (আনারস)।