Opu Hasnat

আজ ৫ জুলাই মঙ্গলবার ২০২২,

মোরেলগঞ্জে রাস্তা নির্মানে অনিয়ম, ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বাগেরহাট

মোরেলগঞ্জে রাস্তা নির্মানে অনিয়ম, ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ  উপজেলা দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তরের হেরিং বোনবন্ড (এইচবিবি) রাস্তায় ইট সোলিংয়ে নিন্মমানের কাজ করা হচ্ছে। উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু তারপরও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয়দের সাত-পাঁচ বুঝিয়ে যেন তেন ভাবে রাস্তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিন্মমানের ইট দিয়ে কাজ শুরু হওয়ায় চরম অসন্তোষ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসির চাপের মুখে বুধবার (২৫ মে) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: রোকন উজ্জামান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তরের হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অধীনে বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ডের কালিবাড়ি সুইসগেইট থেকে কাটাখালের পুর্ব পাশ হয়ে নদী পর্যন্ত ১৫০০ মিটার হেরিং বোন বন্ড (এইচ বিবি) রাস্তা নির্মান কাজ করা হচ্ছে। মোট ১৫০০ মিটার রাস্তার প্রকল্পটির ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৮ লক্ষ  টাকা। কাজটি করছেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার   মের্সাস রাহাত এন্টারপ্রাইজ। এলাকাবাসী  বলছেন কাজটি তদারকিতে কতৃপক্ষের তেমন কোন হস্তক্ষেপ নেই, মাঝে মাঝে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্যসহকারী, অফিস সহকারীকে কাজের এখানে আসতে দেখা যায়, তারা এসে কিছুক্ষন থেকে এলাকা ত্যাগ করেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যাবস্হাপনা মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তা বা ইঞ্জিনিয়ারকে কাজের সঠিক তদারকি করতে দেখা যায়নি। আরও জানা গেছে, রাস্তায় ইট সোলিং কাজে ১ নম্বর ইট ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু রাস্তাটির উপরের অংশের কাজে ২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে নিচের ভাগে ব্যবহার করা হচ্ছে অধিকাংশ ৩ নম্বর বা নাম্বার বহীন ইট। নিচের ভাগে নিন্মমানের ১-২ ইঞ্চি ফাঁকা রেখে ইট বিছানো হচ্ছে। রাস্তার ইটে পানি দেয়ার কথা থাকলেও পানি দেয়া হয়নি। ফলে দায়সারা ভাবে কাজ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর  অভিযোগের পরও আবারও নিন্মমানের দুইবার পোড়ানো ৩ নম্বর ইট রাস্তায় ফেলায় এলাকাবাসী তীব্র প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাহাত এন্টারপ্রাইজ কিছু নাম্বার বিহীন  ইট সরিয়ে নিচ্ছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা  আলী আহমেদ বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রাস্তায় ইট সোলিং কাজে এতটাই অনিয়ম করা হচ্ছে যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ঠিকদারকে কাজ শুরুর পরে একবারও দেখা যায়নি, রাস্তার উপরিভাগে ১ নাম্বার ইট দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে ২ নম্বর ইট, আর নিচে দেয়া হচ্ছে অধিকাংশ ৩ নম্বর বা এর চেয়েও নিন্মমানের ইট। আর যেসব  ২ নম্বর ইট দেওয়া হচ্ছে সেগুলো আবার ৩ নম্বর ইট দুইবার পুড়িয়ে ২ নম্বর বানানো। আমরা এই প্রথমবারের মত হটের রাস্তাটি পেয়েছি, এভাবে এই রাস্তাটি নির্মান করা হলে এক বছরের বেশি টিকবে না। পুরনায় আমাদের চলাচলের জন্য আবার দূর্ভোগ পোহাতে হবে। 

একই এলাকার ইউপি সদস্য হেমায়েত হাওলাদার, বিপ্লব তালুকদার,  সবুজ হাওলাদার, আলামিনসহ অনেকে বলেন, রাস্তার কাজ সঠিক ভাবে  চলছে না। রাস্তার উপরের ইট ঠিক থাকলেও নিচের ভাগে নিন্মমানের ইটগুলো ১-২ ইঞ্চি ফাঁকা করে বিছানো হচ্ছে এবং তা বালু দিয়ে ঢেকে দেয়া হচ্ছে। আর নিচের অধিকাংশ ইট ভাঙ্গা ফাঁটা। এছাড়া রাস্তায় পানিও ঠিকমতো ব্যবহার করা হয়নি। রাস্তার কাজ হবে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নিন্মমানের হওয়ায় কয়দিন টিকবে তা এখন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের একজন বাসিন্দা  জানান যে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের গভীর যোগসুত্র রয়েছে, তাই চেয়ারম্যান রাস্তার কাজের তেমন তদারকি করছেন না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান টি এম রিপন হোসেন জানান, আমার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের মানুষ অবহেলিত, নদী ভাঙন সহ নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে টিকে আছে এখানকার মানুষ, দীর্ঘ উপজেলা প্রকল্প ব্যাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রোকনউজ্জামান বলেন, আমি বুধবার (২৫ মে) ঘটনা স্থাল  পরিদর্শনে গিয়ে নির্মানাধীন কাজে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পেয়েছি যেমন, নিম্নমানের ইট, সোল্ডারে মাটির পরিমান  কম, রিং প্ই্পা স্থাপন করা হয় নি, ড্রাম সীট/প্যালাসাডিং করা হয়নি এবং ভরাটকৃত মাটির কম্পেকশন ভাল হয়নি। কাজে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের জন্য ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাহাত এন্টারপ্র্ইাজ কে কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি।

বাগেরহাট জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, বহরবুনিয়া ইউনিয়নের  রাস্তার কাজে কোন অনিয়ম হতে দেয়া হবে না, আমি নিজে কাজ পরিদর্শনে যাবো, অভিযোগ পেলে অভিযোগ  আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাবস্হা গ্রহন করা হবে।