Opu Hasnat

আজ ১৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২০২২,

জবি'র নবিস মার্কেটার'স দের শব্দ দূষণ বিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ক্যাম্পাস

জবি'র নবিস মার্কেটার'স দের শব্দ দূষণ বিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

এহসান, জবি প্রতিনিধি : নবিস মার্কেটারস (Novice marketers) মার্কেটিং ১২তম ব্যাচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে শব্দ দূষণ বিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান শব্দদুষণ রোধে জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শব্দদূষণ বিরোধী ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে।

বুধবার (২৩ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত নবিস মার্কেটার'স (Novice marketers) নামে এই দলটি রাজধানীর পল্টন মোড়, কাকরাইল মোড় এবং শান্তিনগর মোড়ে এই ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে।

ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করা এনামুল হক বলেন, শব্দদূষণ বলতে মানুষের বা কোনো প্রাণীর শ্রুতিসীমা অতিক্রমকারী কোনো শব্দসৃষ্টির কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাকে বোঝায়। সাধারণত গাড়ির হর্ন, মাইকের অসতর্ক ব্যবহার, ধর্মীয় সভা-সমাবেশ, বিভিন্ন  প্রচারণায় মাইকের অসতর্ক ব্যবহার, নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট তীব্র আওয়াজ থেকে  শব্দ দূষণের  উৎপত্তি হয়।

তিনি আরও বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত  শব্দ যা বিরক্তির উদ্রেক করে এবং শোনার সময় তা অসংহত ও উচ্চ মনে হয়। উচ্চশব্দের ফলে মানুষের ওপর অনুভূতিগত, শারীরিক অথবা মানসিক প্রভাব পড়তে পারে। অল্প মাত্রার সহনীয় শব্দ শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকারক নয়। তবে বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন অতি মাত্রায় জোরালো ও অপ্রয়োজনীয় শব্দ যখন মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে বিরক্তি ঘটায় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে তখন তা শব্দদূষণের পর্যায়ে পড়ে।  শব্দদূষণ সমগ্র বিশ্বেই এক গুরুতর সমস্যা।

শহরের আবাসিক এলাকায় শব্দ বা আওয়াজের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৩৫ থেকে ৪৫ ডেসিবল, আর নগরে-বন্দরে ৪৫-৫০ ডেসিবলের বেশি নয়। কিন্তু আমাদের দেশে শহর, নগর ও বন্দরে শব্দদূষণের মাত্রা ৮০ থেকে ১০০ ডেসিবলেরও বেশি। এ কারণে শব্দদূষণের পরিণাম অবশ্যই ভয়াবহ। শব্দদূষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ চিন্তা ও চেতনায় বাধা সৃষ্টি করে। নগরজীবনে স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে শব্দদূষণ। সম্প্রতি শহর বন্দর নগরে নির্মাণকাজ এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এ সমস্যা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে একদিকে জনগণ যেমন শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে রয়েছেন, সেই সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শব্দদূষণ দুশ্চিন্তা, অবসাদ, উদ্বিগ্নতা, নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি বাড়িয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।  

সোহেল রানা বলেন, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে শব্দদূষণের কারণে অনেক মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে। দেশের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো এলাকায় দিনের কোন সময়ে, কী ধরনের শব্দদূষণ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শব্দদূষণকে বলা হয় নীরব ঘাতক। আর বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে শব্দদূষণের বহু উৎস রয়েছে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। রাস্তাঘাটে মাইক ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করা, শিল্প-কারখানা কোনো ক্ষেত্রেই শব্দদূষণ বিষয়ে যেসব নিয়ম রয়েছে তা মানা হচ্ছে না।

নবিস মার্কেটার'স গ্রুপের সদস্যরা জানান, এই ব্যাপারে আমাদের অনুপ্রাণিত  করছেন আমাদের ডিপার্টমেন্টের সহকারী অধ্যাপক জনাব বিদ্যুৎ কুমার বালো স্যার। আমাদের এই খুদ্র প্রচেষ্টা যদি এক ডেসিবল শব্দ কমাতে সাহায্য করে সেটাই আমাদের জন্য সার্থকতা।

সার্জেন্ট (অপরাধ ও তদন্ত  রমনা জোন) সুশীল চন্দ্র বলেন আপনাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই, শব্দদূষণের মত জাতীয় সমস্যা সমাধানে চাই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ও পরিকল্পনা।

কাকরাইল ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পরিদর্শক তরিকুল আলম সুমন, এই কার্যক্রম কে সাধুবাদ জানিয়ে নিজে নবিস মার্কেটারস দের সাথে রাস্তায় নেমে প্রচারনা চালায়, তিনি বলেন ঢাকা শহরে কোনো হর্ণ এর দরকার নেই, এখানে এমনিতেই গাড়ির গতি কম তাছাড়া এত গাড়ি, আমি নিজে তিন বছর ধরে কোনোরকম হর্ণ বাজাই না তাতে আমার কোনো সমস্যা হয়নি এখন পর্যন্ত।

অতিরিক্ত শব্দ এবং হর্ণের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা,  যারা রাস্তায় কাজ করছি, সারাক্ষণ অতিরিক্ত শব্দের ফলে জোরে কথা বলে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ফলে বাসায় যখন যাই পরিবারের সদস্যদের সাথেও দেখা যায় বেশি আওয়াজে কথা বলি তখন তারা মনে করে আমি রেগে আছি বা বিরক্ত হয়ে কথা বলছি।

কাকরাইল ট্রাফিক সার্জেন্ট শফিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা শব্দ দূষণ প্রতিরোধের মত  একটা উদ্যোগ নিয়েছেন দেখে খুবই ভালো লাগছে, আমরা সারাক্ষণ রাস্তায় ডিউটি করি অতিরিক্ত হর্ণের শব্দে মেজাজ সবসময় খিটখিটে থাকে তাছাড়া রাতে ভালো ঘুম হয় না। এছাড়াও নানা রকম শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।