Opu Hasnat

আজ ২৩ মে সোমবার ২০২২,

মুন্সীগঞ্জে গ্যাস থেকে বিস্ফোণ : ভাই-বোনের পর মারা গেলেন বাবা মুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে গ্যাস থেকে বিস্ফোণ : ভাই-বোনের পর মারা গেলেন বাবা

মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ চরমুক্তারপুর এলাকায় চারতলা ভবনের দুইতলায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকান্ডে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ চিকিৎসাধিন ভাই-বোনের মৃত্যুর পর বাবাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বাবা মো. কাওসার (৪২) মারা যান। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো একই পরিবারের ৩ জনের। তার শরীরের ৫৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

শনিবার বিকেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইউব হোসেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সীগঞ্জের চরমুক্তারপুর এলাকার একটি চারতলা ভবনের দুইতলার ফ্ল্যাটে অগ্নিকান্ডে একই পরিবারের দুই শিশুসন্তানসহ চারজন দগ্ধ হলে তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এনে ভর্তি করানো হয়।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার কাউসারের দুই শিশু সন্তান ইয়াছিন (৫) ও নহর(৩) একই ঘটনায় চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান।

অপর দগ্ধ শান্তা বেগম (৩৮) শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরের ৪৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজন।

নিহত কাউসারের ভগ্নিপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে কাউসার মারা গেছে। শান্তার অবস্থাও ভালো না।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ আরো বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর সকালে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চারজনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়।

এদিন দুপুরের দিকে ভাই-বোন ইয়াসিন ও নহরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে আইসিইউতে রাখা হয়। বিকেলের পরে অবস্থা আরও অবনতি হলে ভাই-বোন দুজনকেই লাইফ সাপোর্টে রাখেন চিকিৎকরা। পরে রাত সারে ৭ টার দিকে নহর ও সোয়া ৯ টার দিকে ইয়াসিন মারা যায়। কাউসার ও শান্তার অবস্থা ভাল ছিল না। পরে তাদেরকেও আইসিইউতে রাখা হয়।

সেখানে বারংবার বাবা-মা দুজনেই তাদের দুই সন্তানদের কথা জিজ্ঞেস করছিল। মরে যাওয়া সন্তানদের দাফন করার বিষয়টি বাবা-মাকে জানাতে পারিনি।

নিহত কাউসার আবুল খায়ের কোম্পানির রিভার ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে মুন্সীগঞ্জে কাজ করতেন। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়।

চাকরির সুবাদে তিনি পরিবার নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরমুক্তারপুর এলাকার একটি চারতলা ভবনের দুইতলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাজিব খান জানান, গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ একই পরিবারের ভাই-বোন দুই শিশুর মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার সকালে বাবারও মৃত্যু হয়েছে খবর পেয়েছি। তাকে ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। অপর দগ্ধ শিশুদের মা শান্তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরের জানালা থাই গ্লাস ভেঙে যায়। ঘরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র পুরে যায়। এসময় কাওছার-শান্তা দম্পতি তাদের দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন ওই ফ্ল্যাটে। কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই বিস্ফোরণে আগুনে দগ্ধ হয় তারা। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে ভর্তি করা হয়।