Opu Hasnat

আজ ২৮ নভেম্বর রবিবার ২০২১,

শীতের সবজি নিয়ে আশার স্বপ্ন বিভোর সৈয়দপুরের চাষিরা কৃষি সংবাদনীলফামারী

শীতের সবজি নিয়ে আশার স্বপ্ন বিভোর সৈয়দপুরের চাষিরা

নীলফামারীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার সৈয়দপুরে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করেছে। শীতের সবজি নিয়ে আশার স্বপ্ন বিভোর সৈয়দপুরের চাষিরা। ইজিবাইক, রিকশা ভ্যানে এসব সবজি সরাসরি এই পাইকারি বাজারে আসছে। বিক্রি বাট্টাও ভালো। ফলে লাভবান হচ্ছেন এখানবার চাষিরা। এ কারণে আলু, ধানসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে একের পর এক লোকসান গুনে এবার শীতের সবজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ওই চাষিরা।  এই সবজির কারণে এলাকায় আশ্বিন-কার্তিক মাসের অভাব চোখে পড়ছে না।

সরজমিনে উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বাঙালিপুর ও বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ করা হয়েছে বোতলাগাড়ির শ্বাসকান্দর, পোড়ারহাট, বেংমারী, অচিনার ডাংগা প্রভৃতি এলাকায়। সেখানে দিনরাত পরিশ্রম করে সবজির পরিচর্যা করছেন কৃষকরা। বাড়তি আয়ের আশায় পোকা- মাকড় দমনে কেউ স্প্রে করছেন, কেউবা নিড়ানির জন্য নারী-পুরুষকে নিয়োগ করেছেন। জমিতে অগভীর নলকুপ (শ্যালো) বসিয়ে চলছে সেচের ব্যবস্থাও।

চারিদিকে শীতের সবজির সমারোহ। বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, করলা, লাল শাক, পালং শাক, শিম, টমেটো, বেগুন, লাউ, শষা, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, ডাটা, চিচিঙা, পটল, ঢেঁড়স, কাঁচা মরিচ প্রভৃতি ফসলে গাছ ভরে গেছে। আগাম চাষ করে বাজারে তোলায় দামও পাচ্ছেন কৃষকরা। সৈয়দপুরের ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে বোতলাগাড়িতে সবচেয়ে বেশি শাক-সবজি আবাদ হয়। ফলে এখানকার উৎপাদিত শাক- সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বাইরের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে থাকে। এই কারণে ইউনিয়নটি শাক- সবজির এলাকা হিসেবে সর্বত্র পরিচিতি লাভ করেছে।

উপজেলার শ্বাসকান্দর এলাকার চাষি মইনুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার জানান, টানা কয়েক বছর ধান চাষে কৃষকরা দাম না পাওয়ায় শীতের সবজি আবাদ করে দুটো পয়সার মুখ দেখছেন। বিশেষ করে এলাকায় আগাম শীতকালীন সবজিতে এখানকার কৃষকরা স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বলে জানান তারা।

সৈয়দপুরের পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে,  শিম প্রতিকেজি ১০০ টাকা, বাঁধা কপি ৮০ টাকা, ফুল কপি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, ধনেপাতা ১০০ টাকা, মুলা শাক ৪০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা ও টমেটো ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এখানকার পাইকারী বাজার থেকে কিনে খুচরা দোকানীরা কেজিতে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা লাভ করছেন। অথচ পাইকারী বাজার থেকে খুচরা দোকানীদের দুরত্ব মাত্র ১০০ গজ। এছাড়া এই বাজার থেকে পাইকাররা শীতের সবজি কিনে ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।

পাইকারী বাজারের আড়তদার আফতাব আলম জানান, চাষিরা সরাসরি এই বাজারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারেন না। তারা সবজি প্রথমে আড়তে আনেন, তারপর আড়তদারই চাষির সবজি বিক্রি করে দেন। বিনিময় আড়তদারকে পণ্য অনুযায়ী কমিশন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা গুণতে হয়।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহিনা বেগম জানান, এই উপজেলার প্রায় সব জমি সবজি চাষের জন্য উপযোগি। আলু, ধান ও অন্যান্য ফসল আবাদ করে কৃষকরা তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি। ফলে চলতি মৌসুমে ব্যাপকহারে সবজির আবাদ করা হয়েছে। এতে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন এবং ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।