Opu Hasnat

আজ ২৪ অক্টোবর রবিবার ২০২১,

অযত্ন অবহেলায় সৈয়দপুর রেলওয়ে সেতু বিভাগের ৮০০ কোটি টাকার মেশিনপত্র নষ্ট! নীলফামারী

অযত্ন অবহেলায় সৈয়দপুর রেলওয়ে সেতু বিভাগের ৮০০ কোটি টাকার মেশিনপত্র নষ্ট!

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দেশের একমাত্র রেলওয়ে সেতু কারখানায় জনবল সংকটে ৬ বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে ইয়ার্ডজুড়ে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে লোহার মালামাল। মাটিতে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় নষ্ট হয়ে গেছে মুল্যবান মেশিনপত্র। এমনটি জানিয়েছে রেলওয়ের একটি বিশস্ত সূত্র।

সূত্রটি আরো জানায়, ১৮৫৭ সালে সৈয়দপুরে রেলওয়ে কারখান গড়ে ওঠে। এরপর ১৮৬৫  সালে কারখানার পাশেই  ১৮ একর জমিতেরেলওয়ে সেতু কারখানা গড়ে তোলা হয় । রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সকল ষ্টেশনের প্লাটফরম সেডের মালামাল, রেললাইনের পয়েন্ট এ্যান্ট ক্রোসিং, ব্রিজ গার্ডার, ট্রলিও মটর ট্রলি মেরামত ও তৈরী, মোর গার্ডার, পানির ট্যাংকি, ফুট ওভার ব্রিজের মালামাল, ট্যাং ষ্টেজিংসহ  ২৫ ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হত এ কারখানায়। কারখানাটিতে রয়েছে মেশিন সপ, পয়েন্টস এ্যান্ড ক্রোসিং সপ ও গাডার ইয়ার্ড সপ নামে তিনটি উপ-কারখানা। ১৯৯১সালে  বিএনপি সরকার আমলে বাধ্যতামুলক গোল্ডেন হ্যান্ডশেক ও নিয়মিত অবসরের কারণে ১২৭ জন মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরিতে মাত্র ৬ জন রয়েছেন। জনবল সংকটে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এদের মধ্যে ২ জন যাবেন অবসরে। বাকি ১ জন প্রেষনে পাকশিতে, ১ জন সহকারী সেতু প্রকৌশলী তিনিও অফিসে নিয়মিত নয়। ১ জন ষ্টোর কিপার ও ১ জন কর্মচারী ফাইলপত্র টানাটানি নিয়েই চলছে বিশাল আকারের এ কারখানার কর্মকান্ড।

সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, প্লাটফরম সেড বা নকশা ঘরটি তালাবদ্ধ। ভিতরে আর্বজনার স্তপ জমে আছে। পাশে মেশিন সেডটির চিত্র একই। ইয়ার্ডজুরে জঙ্গল ও বড় বড় আগাছা। খোলা আকাশের নিচে অযত্নে আর অবহেলায মাটিতে পড়ে রয়েছে এঙ্গেল রড, স্কয়ার রড, কভার প্লেট, মিটার ও ব্রড গেজ লাইনের সেতুর স্পেয়ার গাডার। অন্যপাশে  তিস্তা ও পাকশি হার্ডিঞ্জ সেতুর পরিত্যাক্ত লোহা-লক্কর, রেললাইন, একটি বিকল ষ্টিম ক্রেনসহ বিভিন্ন ধরনের লোহার মালামাল মাটির সাথে মিশে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাটির নিচে চাপা পড়েছে ফ্রাঞ্চ প্লেট ও কভার প্লেট। এসব যন্ত্রাংশ ও মেশিনের  আনুমানিক বাজার মুল্য আটশ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

সহকারী সেতু প্রকৌশলী জুয়েল মিঞা জানান, জনবল ও কাঁচামালের সংকটে ৬ বছর কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।  যেসব মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে তা মেরামত সম্ভব নয়। এসব  কিনতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন বলেই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।