Opu Hasnat

আজ ১১ মে মঙ্গলবার ২০২১,

ব্রেকিং নিউজ

ভোগ করে নয়, ত্যাগ করেই শান্তি পান রিক্সা চালক তারা মিয়া নেত্রকোনা

ভোগ করে নয়, ত্যাগ করেই শান্তি পান রিক্সা চালক তারা মিয়া

‘‘মানুষ মানুষের জন্য - জীবন জীবনের জন্য’’ সমাজে সকলেরই আছে বাঁচার অধিকার। অসহায়দের পাশে দাঁড়নো শুধু সরকারের নয় সকলেরই দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমান করোনা প্রেক্ষাপটে হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কালে এ কথা গুলো বলেন মানবতার ফেরিওয়ালা রিক্সা চালক তারা মিয়া। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্তরে ৫০ জন হতদরিদ্রদের নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে এ খাদ্য সামগ্রী ও মাক্স বিতরণ বিতরণ করা হয়।

রিক্সা চালক নিরক্ষর তারা মিয়া বিগত ৭ বছর যাবৎ রিক্সা চালিয়ে সংসার খরচ বাদে জমানো টাকা থেকে, সমাজে পিছিয়ে পড়া ছেলে মেয়েদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিনামুল্যে শিক্ষা সামগ্রী, মাদরাসা গুলোতে পবিত্র কোরআন শরীফ, বিগত করোনা কালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে অনুদান প্রদান সহ বেশ কয়েকবার হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ইতোমধ্যে এ নিয়ে যুগান্তর, প্রথম আলো সহ নানা জাতীয় পত্রিকায় বেশ কিছু খবর প্রকাশিত হলে অরিয়ন গ্রুপ তার পরিবারে স্বচ্ছলতা আনার জন্য দুই বারে ১লক্ষ টাকা অনুদান দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল ২০২১ অনুদানের ৫০ হাজার টাকা পান। সেই অনুদানের ৫০ হাজার টাকা থেকে মসজিদ-মাদরাসায় দান করা শেষে বর্তমান করোনা প্রেক্ষাপটে দুর্গাপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ৫০জন হত দরিদ্রদের মাঝে চাল, ডাল, পেয়াজ সহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। 

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাহাদাত হোসেন কাজল, পথপাঠাগার এর সভাপতি নাজমুল হুদা সারোয়ার, সাংবাদিক তোবারক হোসেন খোকন, নিতাই চন্দ্র সরকার, রাজেশ গৌড়, শান্ত তালুকদার প্রমুখ। 

তারা মিয়া (৩১) দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিনমজুর মোঃ হেলিম মিয়ার ছেলে। মা রহিমা খাতুন একজন গৃহিনী। তারা মিয়ার ১২ বছরের ছেলে ও ২ বছরের এক মেয়ে ও স্ত্রী আছে। তার ছেলে পড়াশুনা করছে। ৩ ভাই এর মধ্যে সবার বড় তারা মিয়া। সংসারের দারিদ্রতার কারণে কেউই লেখাপড়া করতে পারেনি। এটাই তার মনের কস্ট। সে যখন দেখতো ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে তখন সে ভাবত এবং স্বপ্ন দেখত, আমি এবং আমরা তিনভাই শুধু মাত্র দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়া করতে পারি নাই। বড় হয়ে নিশ্চয় কিছু না কিছু করব। যখন আমি আয় করব, তখন আমি আমার সংসার চালিয়ে যে সকল গরীব ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করতে অসুবিধা হবে, আমি আমার সাধ্যমত তাদেরকে সহযোগিতা করব, তাদের পাশে দাড়াবো। গত ১ বছর পূর্বেও তিনি ভাড়ায় চালিত প্যাডেল রিক্সা চালাতো বর্তমানে ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছে। সে প্রতিদিন তার নিজের ঘরে একটি মাটির ব্যাংকে ২০ থেকে ৩০ টাকা সঞ্চয় করে সেই অর্থ দিয়ে এ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

আজকের এই সমাজে তারা মিয়ার মত বিত্তবানরাও যদি একটু একটু করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় কোন ছেলে-মেয়েই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না। সমাজ হবে শিক্ষিত, দুর্নীতি মুক্ত। বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর মধ্যে একটি সুন্দর দেশ। এ স্বপ্নই দেখছেন রিক্সাচালক তারা মিয়া।