Opu Hasnat

আজ ৩০ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০২১,

প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব, প্রয়োজন গণসচেতনতা মতামত

প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব, প্রয়োজন গণসচেতনতা

বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি প্রায় সবকিছুকেই আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। কিন্তু এত আধুনিকতার মাঝখানে কোথাও যেন একটু ফাঁক থেকে যাচ্ছে। মানব সভ্যতা যতই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ততই আমরা কিছু অমীমাংসিত সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়ছি। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আজ একসাথে হাত মিলিয়েছেন। ‘জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত সমস্যা’ তেমনই একটি জটিল সমস্যা। জলবায়ু প্রাকৃতিক প্রভাবে যতটা না পরিবর্তিত হয় তার চেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয় মানবসৃষ্ট কারণে। মানুষ বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষিত করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ।

গবেষণায় দেখা গেছে পৃথিবীতে উৎপাদিত মোট প্লাস্টিকের শতকরা ২ ভাগ অর্থাৎ ১৩ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক গিয়ে জমা হচ্ছে মহাসাগরে। ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্রের ওপর এর প্রভাব দিনের পর দিন ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালের দিকে সমুদ্রের পানিতে মাছের তুলনায় প্লাস্টিকের পরিমাণ বেড়ে যাবে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল  The Seattles Time (দ্য সীটল টাইম) নামক দৈনিকে প্রকাশিত এক খবর বিশ্ববাসীকে জাগিয়ে তোলে। সীটল সমুদ্র সৈকতে একটি মৃত বিশালদেহী তিমিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে এই তিমির দেহ ব্যবচ্ছেদ করে দেখা যায় যে, এর পাকস্থলী ভর্তি বহু প্লাস্টিক পদার্থ দিয়ে। গবেষকরা ধারণা করেন এসব প্লাস্টিক পদার্থই তিমিটির মৃত্যুর কারণ।

সম্প্রতি জাতিসংঘ এ বিষয়ে এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়— প্রতি বছর প্রায় ৮০০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী সমুদ্রযানের নানা বর্জ্য পদার্থ দিয়ে আক্রান্ত হয়। আর এসব বর্জ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই প্লাস্টিক, যা নিতান্তই আমাদের দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

United Nations Marine Conference একটি গবেষণায় দেখিয়েছে, সামুদ্রিক প্রাণী ও পাখির মৃত্যুর প্রায় ৪০% হচ্ছে প্লাস্টিকের কারণে। 

পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন প্লাস্টিক মাটির সাথে মিশে না, যার কারণে মৃত্তিকার উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। কোসিস্টেমের স্বাভাবিক গতিকে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার কারণে শহরাঞ্চলে জলজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং কিছু কিছু প্লাস্টিক অত্যধিক তাপমাত্রায় গলে গিয়ে পানির সাথে মিশে যাচ্ছে যা মানবশরীরের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। 

প্লাস্টিকের এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে প্রয়োজন দক্ষ মনিটরিং এবং গণসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। 

প্লাস্টিকবিহীন জীবনযাপন সম্ভব না হলেও পরিবেশের ওপর যেন কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কার্যত পরিবেশের ক্ষতি করার মানে হলো নিজের ক্ষতি করা, যার প্রভাব বয়ে বেড়াতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বেড়ে উঠতে হবে এক তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে জাতিসংঘ থেকে সব আন্তর্জাতিক সংস্থা, জোট ও ব্যক্তি পর্যায়ে সবাইকে একসঙ্গে প্লাস্টিকের উৎপাদন, বাণিজ্য ও ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য যেন মহামারী আকার ধারণ করতে না পারে, সেজন্য এখন থেকেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গড়ে তুলতে হবে এক বাসযোগ্য নিরাপদ পৃথিবী।

লেখক : মামুনুর রশিদ 
শিক্ষার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।