Opu Hasnat

আজ ২৯ নভেম্বর সোমবার ২০২১,

স্বাধীনতা কি দায়িত্ব ; নাকি স্বেচ্ছাচারিতা, তরুণদের চোখে স্বাধীনতা ও সমাজ বাস্তবতা মতামতক্যাম্পাস

স্বাধীনতা কি দায়িত্ব ; নাকি স্বেচ্ছাচারিতা, তরুণদের চোখে স্বাধীনতা ও সমাজ বাস্তবতা

স্বাধীনতা একটি ব্যঞ্জনাময় প্রত্যয়। এর অনুধাবন সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন, পরিমার্জন ও বিকশিত হয়েছে। স্বাভাবিক অর্থে, স্বাধীনতা হলো- ‘এমন ভাবে জীবন পরিচালনা করা যেখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপ থাকবে না, ব্যক্তি তার ইচ্ছা অনুযায়ী সর্বক্ষেত্র পরিচালনা করবে।’ আবার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনতা হলো- ‘ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের অনুকূল সামাজিক ব্যবস্থা যে ব্যবস্থায় অন্য কারো প্রতি বিরূপ আচরণ না করে ব্যক্তি তার জীবন পরিচালনা করবে, কেউ কারো জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না। 

আজকের তরুণদের চোখে স্বাধীনতা ও বর্তমান সমাজ বাস্তবতা সম্পর্কে কিছু কথা তুলে ধরেছেন এহসানুল হক এহসান (শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)।  

স্বাধীনতার অর্থ ও ব্যবহার সময়-স্থান-পরিস্থিতি ও ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্থ ছিল মূলত পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মৌলিক অধিকার কেন্দ্রিক, খেয়ে-পরে বাঁচার অধিকার, পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষণ-বঞ্চনা-নিপীড়ন থেকে মুক্তির অধিকার, শিক্ষা লাভের অধিকার, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার, কর্ম ক্ষেত্রে প্রকোপ বৈষম্য থেকে মুক্তির অধিকার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও মুক্তি লাভ, যার পরিসর ছিল খুব কম। বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।’

ত্রিশ লক্ষ শহিদ ও দুই লক্ষ নারী সম্ভ্রমের বিনিময়ে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আমরা যে লক্ষ্যে স্বাধীনতা লাভ করেছিলাম তার অনেকটা বিস্তৃত ঘটেছে। বাঙ্গালির স্বাধীনতার সংজ্ঞা স্বাধীনতা অর্জনের পূর্ববর্তী আর পরবর্তী সময়ে এক ছিল না। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে জীবনের সবদিককে ঘিরে ধরেছে ‘স্বাধীনতা’, যা পূর্ববর্তী সময়ে ছিল কতিপয় দিকের সমষ্টি। শুধু খেয়ে-পড়ে বাঁচাই না, নারীমুক্তি, শিশু অধিকার রক্ষা, মেধার যথার্থ বিকাশে শিক্ষা লাভ, সকল কর্মক্ষেত্রে সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ রক্ষা,  তথ্য-বিনোদন-বিশ্ববাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি, আধুনিকায়ন যুক্ত হলো স্বাধীনতা অর্থটির সাথে। বর্তমান সমাজে বাংলাদেশের প্রক্ষিতে তরুণদের কাছে স্বাধীনতা অর্থ অনেক ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময়। প্রত্যেকের কাছে স্বাধীনতার অর্থ তার নিজস্ব চিন্তা চেতনার প্রতিফলনের স্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে কেউ-কেউ  স্বাধীনতাকে অবাধ জীবন হিসেবে কল্পনা করছে, আবার কেউবা স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলা বলেই মেনে নিয়েছে, আবার কারো-কারো চোখে স্বাধীনতা হয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা। স্বাধীনতা নিয়ে তরুণ সমাজের এই বিভিন্নমূখী দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই স্বাধীনতার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তরুণ সমাজের এক ক্ষুদ্র অংশ স্বাধীনতাকে দেখছে স্বেচ্ছাচারিতা হিসেবে। যার ফলে বেড়ে গেছে মাদকাসক্তির প্রভাব, গুরুজনদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন, নৈতিকতা বিবর্জিত শৃঙ্খলাহীন জীবন, অনলাইন গেইমের নেতিবাচক প্রভাব, আসক্তি, প্রযুক্তির অপব্যবহার, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসমূহের প্রভাব। এতে করে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও সমাজের উপর নেমে আসছে আর্থ-সামাজিক দিকে থেকে এক বিরূপ প্রতিক্রীয়া। বিশেষত পরিবারের সকলের মানসিক চাপ ও অস্বস্তি বেড়েই চলছে দিনের পর দিন। তাদের চোখে স্বাধীনতা প্রয়োগের কোন যুক্তিযুক্ততা নেই। নিঃসন্দেহেই এসব দিক স্বাধীনতার পরিপন্থী। অন্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু কখনোই স্বাধীনতা হতে পারেনা। স্বাধীনতা শুভ্রতার প্রতীক, একটি স্বপ্ন সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু।

অবশ্য সমাজের অধিকাংশ তরুণের চোখে স্বাধীনতা একটি আলোকিত প্রত্যয়। যে প্রত্যয়ের আলোকে তারা জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজ সিদ্ধান্তে পরিচালিত হতে পারবে। আর্থ-সামাজিক দিক থেকে মুক্তি থাকবে, চলাফেরায়, রাজনীতি চর্চায়, জ্ঞানার্জনে-শিক্ষাক্ষেত্রে, চাকুরির ক্ষেত্রে, চিন্তা-চেতনায় সবদিক থেকে স্বাধীনতা থাকবে। মৌলিক অধিকার সমূহের বহিঃপ্রকাশ হবে সুস্পষ্ট। এছাড়াও একুশ শতকের সম্পদ তথ্যপ্রাপ্তি ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারে অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা তাদের কাছে একটি মুখ্য বিষয়। তারা মনে করে, স্বাধীনভাবে জীবন পরিচালনার অর্থই হলো সমাজে অবস্থিত সকলের মানসিক বিকাশের জন্য এক উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে প্রত্যেকেই সকল সুবিধা ভোগ করে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠতে পারে। যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ থাকবে না, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, ক্ষুধা-দরিদ্রতা, নারী সিদ্ধান্তগ্রহণে সংকীর্ণতা, অর্থনৈতিক ব্যবধান, অপহরণমূলক ও সন্ত্রাসীবাদী কর্মকান্ড, জঙ্গীবাদ ইত্যাদি মুক্ত একটি আলোকিত সমাজ থাকবে। যেখানে উন্মুক্ত সেবা ও পরিচর্যায় সমাজের প্রত্যেকে বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা লালন করে হাসিখুশি ভরা জীবন-যাপন করবে। নিরাপত্তা, নিরপেক্ষতা, সৌহার্য্য-ভালোবাসা পরিবেশ-পরিস্থিতি হবে যে সমাজের মূল প্রেরণা। সর্বোপরি, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা যেখানে বাস্তবায়িত হবে এমনই স্বাধীনতার অভিব্যক্তি তরুণদের চোখে লেগে আছে। তরুণদের চোখে এই স্বাধীনতাই যেন বাঙ্গালির হাজার-হাজার বছর ধরে লালিত স্বপ্নকেই উদ্দেশ্য করে গাঁথা!

রোকাইয়া মিজান মিমি 
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। 

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এসেও আজও আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ কি তা-ই বুঝে উঠতে পারলাম না। দেশে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই চলছে। কখনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, কখনো দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-অনিয়মের ছড়াছড়ি, কখনো বা ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যাধিতে স্বাধীনতা জর্জরিত হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিতে বলতেই হয়- ‘স্বাধীনতা শব্দটি আছে, নেই স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ’।

সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকা সত্বেও ২০১৫-১৬ ও তৎকালীন সময়ে গুলোতে একজন বাবা যখন তার প্রিয় সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে, তখন তার সন্তানকে সুশিক্ষায় দেখার স্বপ্নের পাশাপাশি জেগে উঠছে ভয়, মনে হচ্ছে-এই বুঝি পেট্রোলবোমায় জ্বলে উঠবে চলন্ত বাসটি; হারাবে তার প্রিয় সন্তান ও নিজের প্রাণ! এদিকে থেকে তার কাছে স্বাধীনতা মানে- ‘নিরাপদ জীবন যাপনের উপযুক্ত পরিবেশে।’

এরপর যখন একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক/যুবতী চাকুরির জন্য ছুটে বেড়াচ্ছে- তার মেধা আছে, যোগ্যতা আছে তবুও চাকরি আর মিলছে না! মিলবে কি করে! ততোক্ষণে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির থাবায় চাকরিটা অন্য কারো ভাগ্যে চলে গিয়েছে। শুধুমাত্র একটি অনিয়মের ফলে, একটি তথ্যের অভাবে, প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে হাজারো পরিবার সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, দিনের পর দিন। এই অনিয়মের নায়ক কতিপয় তুচ্ছ ক্ষমতাধর। সেই বঞ্চিত লোকদের কাছে স্বাধীনতা হলো- ‘অধিকার ভোগের উপযুক্ত পরিবেশ।’

এই একুশ শতকে, আজও, নারীরা স্বাধীন হয়েও পুরোপুরি স্বাধীন নয়, কিছু নারী আত্মউৎকর্ষের চরম শিখরে পৌঁছুলেও অধিকাংশ নারীই, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নারীরা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মতামত দিতে পারছেনা। পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় চাপ মুখ বুঝে সহ্য করছে। উচ্চশিক্ষা নিতে, প্রাত্যহিক চলাফেরায়, চাকুরীতে বাধঁছে শিকলের টান! এর মূল কারণে বলতে পারি- ‘নারীরা আজও অর্থনৈতিক দিক থেকে পুরোপুরি মুক্ত না।’ এছাড়াও বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত অগণিত কিশোরী, তার দেখা প্রত্যেকটা স্বপ্নকে মেরে ফেলে। এসব নারীর কাছে স্বাধীনতা হলো- ‘নিজের জীবন নিজে পরিচালিত করায় অধিকার ভোগ।’ 

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এসব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, তবুও স্বাধীনতা বিষয়টি বিভিন্ন জনের বিভিন্ন প্রত্যয়ই রয়ে গেল। সর্বোপরি স্বাধীনতাকে কখনও একটি বাক্যে, এক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। এর অর্থ সমাজের সকলের ভালো থাকার প্রত্যাশায় সমন্বিত রূপ। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তিসহ জীবনের অন্যান্য দিকসমূহ সুশৃঙ্খল পরিচালিত করার প্রয়াস।

মুতাসিম বিল্লাহ মাসুম 
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

স্বাধীনতা মূলত একটি আপেক্ষিক বিষয়। তাই স্বাধীনতা বিষয়টি একেক জনের কাছে একেক রকম ভাবে ধরা দেয় কিংবা বর্নিত হয়ে থাকে। মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি বা আকাঙ্ক্ষা হলো এই স্বাধীনতা। তবে আমার কাছে স্বাধীনতা হলো একটা স্বস্তির অনুভূতি।যদিও কবির মতো আমিও মনে করি,”স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন”। আর এর উৎকৃষ্ট নজির হলো আমার প্রাণের জন্মভূমি বাংলাদেশ। তাই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী লগ্নে এসেও আমাদের দেশটি যেন স্বাধীনতার সঠিক সজ্জা নিজের অঙ্গে ধারণ করতে পারে নি।আজও পারেনি স্বাধীনতার মাহাত্ম্য নিজের মধ্যে লালন করতে। বাংলাদেশে তথা আমাদের স্বাধীনতা যেন কেবল জনশ্রুতি হয়েই রয়ে গেলো। কারন এই দীর্ঘ সময় পরেও আমরা এর সুফল ভোগ করতে পারছিনা। আমাদের স্বাধীনতা যেন আলেয়ার আলো হয়ে অধরাই থেকে যায়। হয়ত তা মরিচীকার মতই কল্পিত সত্ত্বা।

আমাদের নাগরিক কবি শামসুর রাহমান তার “স্বাধীনতা তুমি” দীর্ঘ কবিতায় স্বাধীনতাকে নানা উপমা আর রূপকের মাধ্যমে সাজিয়েছেন। আর স্বাধীনতা সম্পর্কে নিজের ভাবনাগুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। কবির  মতো করে আমিও তার ভাবনার সাথে একাত্মতা পোষন করে নিজের মতো স্বাধীনতা কে বিশ্লেষণ করতে চাই। 

স্বাধীনতা কেবলি ক্ষুধিতের চাপা কান্না। 
স্বাধীনতার পূর্ন স্বাদ আমরা এখনও পুরোপুরি পেতে পারিনি। এখনো লাখো লাখো ক্ষুধিত অনাহারীর কান্নায় ভারূ হয়ে ওঠে এদেশের আকাশ-বাতাস। স্তম্ভিত হয়ে যায় আমাদের স্বপ্নের স্বাধীনতা।

স্বাধীনতা তুমি ধর্ষিতার চিৎকার।
নারী জাগরণের বাণী গেয়ে যাওয়া বেগম রোকেয়া আর বিপ্লবি ইলা মিত্রদেরও যেন ভুলে গেছে এ জাতি। তাই নারীরা আজও আমাদের সমাজে অবহেলিতা,নির্যাতিত,পতিতা কিংবা ধর্ষিতা। ৭ মাসের নিষ্পাপ শিশু থেকে শুরু করে বাদ যায় না ৭০ বছরের বৃদ্ধাও। বাদ যায়না মানসিক বিকারগ্রস্ত ডাস্টবিনের আবর্জনায় পড়ে থাকা পাগলিটাও। একটা সময় পাগলিটাও মা হয়,বাবা হয় না কেও।অথচ আমাদের গর্বের দেশে ভাত জুটে ক্লেশে,কাজ পেতেও লাগে যোগ্যতা। কিন্ত ধর্ষিতা হতে লাগে না কোন বয়স, ধর্ম,যোগ্যতা। স্বাধীনতা তুমি চাকুরী না পাওয়া হাজারো বেকারের আহাজারি।

কারন প্রায় প্রতিবছরই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এদেশে শিক্ষিত জনসংখ্যা।পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান আর সুযোগ সুবিধার অভাবে তারা বেকারত্বে ভুগছে। আর জড়িয়ে পড়ছে অপরাধের সাথে।কারন কথায় বলে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।ফলে আমাদের জনশক্তি বোঝায় পরিনত হচ্ছে।

আর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী লগ্নে দাঁড়িয়েও বলতে হচ্ছে, স্বাধীনতা অসহায় কৃষকের রোনাজারি।কারন আমাদের কৃষকেরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা। 
মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তারা হারাতে বসেছে নিজেদের অধিকার।স্বাধীনতা সড়ক দূর্ঘটনায় ঝরে যাওয়া সন্তানের তরে মায়ের মর্সিয়া।

পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দূর্বলতা আর অব্যবস্থাপনার দরুণ শুধু মাত্র সড়কেই ঝরে যায় হাজারো প্রাণ। পর্যাপ্ত নীতিমালা প্রণয়ন,  সচেতনতার অভাবও এজন্য দায়ী।

সর্বোপরি,  আমার দেশের স্বাধীনতায় আজ ঘুনে ধরেছে। র্দ্নুীতি আর বর্বরতা ঢুকে গেছে এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে।স্বাধীনতা দ্র্নুীতিরই জয়োঢাক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন কাটে কত অসহায়ের তার হিসেব নেই। যা স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেই গণ্য
স্বাধীনতা ভেজাল খাদ্যের সমহার, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। স্বাধীনতা হোক সবার জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ এটাই কাম্য।যেখানে থাকবে না কোন ধর্ষন, বেকারত্ব, অরাজকতা আর র্দ্নুীতি। সবাই মিলে স্বস্তিতে বাঁচার নামই স্বাধীনতা।

স্বাধীনতা হোক ১৭ কোটি বাঙালীর স্বস্তির নিশ্বাস।আমার স্বপ্নের দেশ হবে স্বপ্নের মতই সুন্দর। 

মারিয়া অনি
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।