Opu Hasnat

আজ ২ জুলাই শনিবার ২০২২,

নগ্ন হয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে বড়শিতে গেঁথে গেল পুরুষাঙ্গ! অন্যান্য

নগ্ন হয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে বড়শিতে গেঁথে গেল পুরুষাঙ্গ!

উলঙ্গ হয়ে সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন হারবার্ট ফেন্ট। ডুব দিয়েছিলেন লেকের গভীরে। হঠাৎ পুরুষাঙ্গে তীব্র ব্যথা। ব্যাপারটা কি? হারবার্ট তাকালেন নিজের যৌনাঙ্গের দিকে। যা দেখলেন তাতে ভয়ে শিউরে উঠলেন। বড়সড় একটি বড়শি গেঁথে রয়েছে তার পুরুষাঙ্গে! কোনো মাছশিকারী পাড় থেকে ছিপ ফেলেছিলেন। কিন্তু মাছের শীররে নয়, বড়শি গেঁথে গেছে হারবার্টের পুরুষাঙ্গে।

জার্মানির একটি লেকে ঘটেছে এই ঘটনা। পুরুষাঙ্গ বড়শিমুক্ত করতে শেষ অব্দি হাসাপাতালেই ছুটতে হয়েছে হারবার্টকে। চিকিৎসকরা সেই কাজে সফল হয়েছেন। আপাতত সেরে উঠার অপেক্ষায় দিন গুণছেন হারবার্ট।

তবে তিনি পণ করেছেন, বড়শি ভয়ে ভীত হবেন না। সুস্থ হওয়ার পর ফের উলঙ্গ হয়েই ওই লেকে সাঁতার কাটতে নামবেন। কারণ, সেখানকার মাছশিকারীদের ওপর একটা ক্ষোভ জন্মেছে তার। তার পুরুষাঙ্গে বড়শি গেঁথে যাওয়ার পরও ওই মাছশিকারী তাকে কোনো সহানুভূতি দেখাননি। উল্টো লেকে উলঙ্গ গোসল করতে নেমেছিলেন বলে হারবার্টের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মাছশিকারী।

লেকটির নাম কাইজারসি। দক্ষিণ জার্মানির অগসবার্গের উত্তর অংশে এর অবস্থান। এটি নিয়ে সেখানকার সাঁতারু ও মাছশিকারীদের মধ্য একটা বিরোধ রয়েছে। কারণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এই লেকে উলঙ্গ হয়ে গোসল করতে বা সাঁতার কাটতে পছন্দ করেন অনেক মানুষ। কিন্তু মাছশিকারীরা তা মনে নিতে পারে না। তারা দাবি করে যে লেকটির মালিক তারাই। সেখানে একমাত্র তাদেরই অধিকার। বাইরের কারো তাই সেখানে গোসল কিংবা সাঁতার কাটার অধিকার নেই। এরপরও অবশ্য যথারীতি কাইজারসি লেকে একই সঙ্গে উলঙ্গ সাঁতার ও মাছ ধরা চলে। তেমন সহাবস্থানের কারণেই এক মাছশিকারের বড়শিতে গেঁথে গিয়েছিল হারবার্টের পুরুষাঙ্গ।

ওই মুহূর্তটির বর্ণনা দিতে গিয়ে হারবার্ট বলেছেন, ‘প্রথমে যৌনাঙ্গ ব্যথা অনুভব করছিলাম। মনে করেছিলাম লেকের তলে কোনো কিছুর সঙ্গে বাড়ি খেয়েছে তা। কিন্তু ভালো করে খেয়াল করতেই দেখলাম সেখানে একটি বড়শি গেঁথে গেছে। ভয় পয়ে গেলাম। যে ব্যক্তি ছিপ ফেলেছেন তিনি যদি এখন মাছ ধরা পড়েছে ভেবে সুতা গুটাতে থাকেন তাহলে কি হবে…ভয়ে তাড়াতাড়ি পানির ওপর ভেসে উঠলাম। চিৎকার করে মাছশিকারীকে অনুরোধ করতে লাগলাম সুতা না টানার জন্য।’

তবে মাছ শিকারীটি তার প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি বলে হারবার্টের কণ্ঠে আক্ষেপ ঝরেছে, ‘আমার অবস্থা দেখে সে মোটেও সহানুভূতি দেখায়নি। উল্টো আমাকে সে বলে যে সেখানে গোসল করার অনুমতি নেই। নিষেধ উপেক্ষা করে মাছ ধরার স্থানে আমার ওভাবে সাঁতার কাটা উচিত হয়নি। এর উত্তরে আমিও তাকে বুঝাতে চাইলাম যে ওই স্থানে অনেকেই গোসল কিংবা সাঁতার কাটতে নামে, তাই ছিপ ফেলার সময় একটু সাবধান হওয়া উচিত। আর সাঁতার কাটার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে সে মনে হয় আমার কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি।’

এদিকে, হারবার্টের পুরুষাঙ্গে বড়শি গাঁথার পর খানিকটা নমনীয় হয়েছেন সেখানকার মাছশিকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিলভিয়া ফিসকার। হারবার্টের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পাশাপাশি মাছশিকারীদের সাবধানে ছিপ ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

বলে রাখা ভালো, ভুক্তভোগী ব্যক্তিটির নাম কিন্তু আসলে হারবার্ট ফেন্ট নয়। ওই ঘটনার পর অন্যদের টিটকারি ও হাসি-ঠাট্টা এড়াতে মিথ্যে নাম বলেছেন তিনি। তার কোনো ছবিও তাই পত্র-পত্রিকায় ছাপানো হয়নি।